Dhaka ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

তালেবান শাসনে বদলে যাওয়া আফগানিস্তান, ৫ বছরের সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শক্তির প্রস্থান এবং দুই দশকের যুদ্ধের অবসানের পর আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের সফল শাসনের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী কাবুলে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের প্রাঙ্গণে সাঁজোয়া যান, জাতীয় পতাকা ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে এক নজরকাড়া সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে এই দিনটিকে জাতীয় ‘বিজয়ের দিন’ হিসেবে পালনের মাধ্যমে তালেবান প্রশাসন সমগ্র আফগান ভূখণ্ডে তাদের সুদৃঢ় শাসন ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

এক ভিডিও বার্তায় তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হক্কানি উল্লেখ করেন যে, দেশের জাতীয় চেতনা, অদম্য সাহস এবং ঐশ্বরিক করুণায় আফগানিস্তান তার ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে।

পাঁচ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় তালেবান সরকারের ৫টি ঐতিহাসিক সাফল্য

১. আফিম নির্মূলে বৈশ্বিক রেকর্ড

তালেবান সরকারের সবচেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সফলতা হলো পপি চাষ ও আফিম উৎপাদন বন্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা। ২০২২ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পপি চাষ নিষিদ্ধ করার পর জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC)-এর তথ্যমতে, আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আধুনিক ইতিহাসে অবৈধ মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য নজির।

২. দুর্নীতিমুক্ত রাজস্বব্যবস্থা ও স্বাবলম্বী অর্থনীতি

বৈদেশিক সহায়তার ওপর শতভাগ নির্ভরতা কাটিয়ে তালেবান প্রশাসন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা বহিরাগত অর্থায়ন ছাড়াই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষমতা জোগাচ্ছে।

৩. কুশ টেপা খাল ও মেগা অবকাঠামো বিপ্লব

দেশের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আফগানিস্তানে ‘কুশ টেপা খাল’ (Qosh Tepa Canal) নামক ঐতিহাসিক মেগা সেচ প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তেল, তামা ও লিথিয়াম খাতের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে বিশ্বমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হচ্ছে।

৪. চার দশক পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও একক নিয়ন্ত্রণ

দীর্ঘ ৪০ বছরের গৃহযুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার পর তালেবান সরকার প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের প্রতিটি অঞ্চলে একক কেন্দ্রীয় শাসন নিশ্চিত করেছে। হাইওয়ে এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন নিরাপদ, যা সাধারণ মানুষের মুক্ত চলাচল সুগম করেছে।

৫. কৌশলগত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব

পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিক বাধার মুখেও তালেবান প্রশাসন এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুদৃঢ় ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি করেছে। রাশিয়া ইতোমধ্যেই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে এবং চীন কাবুলে স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়ে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক চুক্তি করেছে। এছাড়া চীন, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আফগান মিশনগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক মেলবন্ধন জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে এক নতুন সম্ভাবনাময় আফগানিস্তান পুনর্গঠন করতে পেরেছে।

About Author Information

hsnalmahmud

তালেবান শাসনে বদলে যাওয়া আফগানিস্তান, ৫ বছরের সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধি

তালেবান শাসনে বদলে যাওয়া আফগানিস্তান, ৫ বছরের সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধি

Update Time : ০৫:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শক্তির প্রস্থান এবং দুই দশকের যুদ্ধের অবসানের পর আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের সফল শাসনের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী কাবুলে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের প্রাঙ্গণে সাঁজোয়া যান, জাতীয় পতাকা ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে এক নজরকাড়া সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে এই দিনটিকে জাতীয় ‘বিজয়ের দিন’ হিসেবে পালনের মাধ্যমে তালেবান প্রশাসন সমগ্র আফগান ভূখণ্ডে তাদের সুদৃঢ় শাসন ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

এক ভিডিও বার্তায় তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হক্কানি উল্লেখ করেন যে, দেশের জাতীয় চেতনা, অদম্য সাহস এবং ঐশ্বরিক করুণায় আফগানিস্তান তার ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে।

পাঁচ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় তালেবান সরকারের ৫টি ঐতিহাসিক সাফল্য

১. আফিম নির্মূলে বৈশ্বিক রেকর্ড

তালেবান সরকারের সবচেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সফলতা হলো পপি চাষ ও আফিম উৎপাদন বন্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা। ২০২২ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পপি চাষ নিষিদ্ধ করার পর জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC)-এর তথ্যমতে, আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আধুনিক ইতিহাসে অবৈধ মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য নজির।

২. দুর্নীতিমুক্ত রাজস্বব্যবস্থা ও স্বাবলম্বী অর্থনীতি

বৈদেশিক সহায়তার ওপর শতভাগ নির্ভরতা কাটিয়ে তালেবান প্রশাসন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা বহিরাগত অর্থায়ন ছাড়াই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষমতা জোগাচ্ছে।

৩. কুশ টেপা খাল ও মেগা অবকাঠামো বিপ্লব

দেশের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আফগানিস্তানে ‘কুশ টেপা খাল’ (Qosh Tepa Canal) নামক ঐতিহাসিক মেগা সেচ প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তেল, তামা ও লিথিয়াম খাতের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে বিশ্বমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হচ্ছে।

৪. চার দশক পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও একক নিয়ন্ত্রণ

দীর্ঘ ৪০ বছরের গৃহযুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার পর তালেবান সরকার প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের প্রতিটি অঞ্চলে একক কেন্দ্রীয় শাসন নিশ্চিত করেছে। হাইওয়ে এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন নিরাপদ, যা সাধারণ মানুষের মুক্ত চলাচল সুগম করেছে।

৫. কৌশলগত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব

পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিক বাধার মুখেও তালেবান প্রশাসন এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুদৃঢ় ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি করেছে। রাশিয়া ইতোমধ্যেই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে এবং চীন কাবুলে স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়ে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক চুক্তি করেছে। এছাড়া চীন, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আফগান মিশনগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক মেলবন্ধন জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে এক নতুন সম্ভাবনাময় আফগানিস্তান পুনর্গঠন করতে পেরেছে।