Dhaka ১১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি রাজধানীর মিরপুরে বিপিএমএ’র উদ্যোগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যৌন নিপীড়নের মামলা, ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার জরিমানা দিলেন ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মুফতি তাকি উসমানীর ফতোয়া, ব্যাখ্যা চাইল পাকিস্তান সরকার নববী মসজিদে প্রথমবার চালু হলো ডিজিটাল দারস জায়নবাদী শাসনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি’ — মোজতবা খামেনি শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ, এলাকায় উদ্বেগ ২০২৮ শিক্ষাক্রমে আসছে চার নতুন বিষয় বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদরাসা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর ১ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত

কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ Time View

আইডিয়াল টাইমস প্রতিবেদক: কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সব ধরনের প্রকাশনা ও প্রচারসামগ্রী নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে জেলা ও বিভাগে সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, আন্তর্জাতিক মহাসমাবেশ এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের অংশগ্রহণে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অসুস্থতার কারণে তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। লিখিত বক্তব্যে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, অবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও বই-পুস্তক নিষিদ্ধ করতে হবে।

May be an image of one or more people, dais and text

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি আসতে পারেননি। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। বার্তায় ধর্মমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, আলেমদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক স্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন এবং সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

May be an image of one or more people and text

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, কাদিয়ানীরা সাধারণ মুসলমানদের সঙ্গে ঈমানি প্রতারণা করছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক জাতীয় সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার বিল উত্থাপনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় তাওহিদী জনতা রাজপথে সমুচিত জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে সংসদ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশে কেন তা করা হচ্ছে না?” দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনোভাব ও ঈমানি দাবি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা কাদিয়ানীদের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সম্মেলনের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি ও ১০ দফা দাবি

সম্মেলন থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় খতমে নবুওয়ত সমাবেশ, আটটি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং ঢাকায় আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সব সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে সচেতনতামূলক বই পৌঁছানো এবং জুমার বয়ানে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী হুঁশিয়ারি দেন যে, এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পর দাবি আদায় না হলে রাজধানী অবরোধ ও জাতীয় সংসদ ঘেরাওয়ের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সম্মেলনে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের প্রচার নিষিদ্ধকরণ এবং মাওলানা সাদ ও তাঁর অনুসারীদের ইজতেমায় বিধিনিষেধ আরোপসহ ১০ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।

About Author Information

hsnalmahmud

কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

Update Time : ১০:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আইডিয়াল টাইমস প্রতিবেদক: কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সব ধরনের প্রকাশনা ও প্রচারসামগ্রী নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে জেলা ও বিভাগে সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, আন্তর্জাতিক মহাসমাবেশ এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের অংশগ্রহণে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অসুস্থতার কারণে তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। লিখিত বক্তব্যে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, অবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও বই-পুস্তক নিষিদ্ধ করতে হবে।

May be an image of one or more people, dais and text

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি আসতে পারেননি। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। বার্তায় ধর্মমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, আলেমদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক স্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন এবং সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

May be an image of one or more people and text

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, কাদিয়ানীরা সাধারণ মুসলমানদের সঙ্গে ঈমানি প্রতারণা করছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক জাতীয় সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার বিল উত্থাপনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় তাওহিদী জনতা রাজপথে সমুচিত জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে সংসদ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশে কেন তা করা হচ্ছে না?” দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনোভাব ও ঈমানি দাবি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা কাদিয়ানীদের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সম্মেলনের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি ও ১০ দফা দাবি

সম্মেলন থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় খতমে নবুওয়ত সমাবেশ, আটটি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং ঢাকায় আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সব সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে সচেতনতামূলক বই পৌঁছানো এবং জুমার বয়ানে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী হুঁশিয়ারি দেন যে, এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পর দাবি আদায় না হলে রাজধানী অবরোধ ও জাতীয় সংসদ ঘেরাওয়ের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সম্মেলনে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের প্রচার নিষিদ্ধকরণ এবং মাওলানা সাদ ও তাঁর অনুসারীদের ইজতেমায় বিধিনিষেধ আরোপসহ ১০ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।