Dhaka ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সেই আল্লামা আব্দুল হক আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশংসায় ভাসছেন মজলিস আমীর বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে সড়ক সম্প্রসারণের নামে ১৫০ বছরের মসজিদ ভাঙচুর ছয় কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি-বেসরকারি মাদরাসায় চাকরির সুযোগ পরীক্ষায় ছাত্রীদের পর্দার সুরক্ষায় ছবি নয়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের নির্দেশ হাইআতুল উলয়ার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্সে কওমির ৫ আলেম দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলো নবম পে-স্কেল, কোন গ্রেডে কত বেতন ডিএমপিতে বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে ৮ কর্মকর্তা

সেই আল্লামা আব্দুল হক আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশংসায় ভাসছেন মজলিস আমীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক আজাদের একটি বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মজলিস আমীরকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে আলেম সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে সব বিতর্ক ও সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আল্লামা মামুনুল হক। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জামিল মাদরাসায় গিয়ে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন সেই জ্যেষ্ঠ আলেম ও ইসলামী আন্দোলন নেতার সাথে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, দুই আলেম একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করছেন। ইটের বদলে ফুলের এমন প্রতিদান ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি আল্লামা মামুনুল হকের অনন্য শিষ্টাচার দেখে অনলাইন-অফলাইনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

আল্লামা মামুনুল হকের এই সফরকে কওমি মাদরাসার সুমহান শিক্ষার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ধর্মীয় বিশ্লেষকরা। জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও লেখক মাওলানা যুবায়ের আহমদ লিখেছেন, ‘এ আদবই কওমি মাদরাসা শেখায়, ইসলাম শেখায়। শব্দচয়ন ঠিক ছিল না, কিন্তু তিনি দেশের শীর্ষ একজন মুরব্বি আলেম। হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই বলে ফেলেছেন। এর বিপরীতে অনেকেই যখন বেয়াদবিমূলক আচরণ করছিলেন বা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছিলেন, তখন ইবনে শাইখুল হাদিস নিজেই ছুটে গেলেন সেই মুরব্বির কাছে। এতে কি তিনি ছোট হলেন? না, তার মর্যাদা আরও বাড়ল।’

অন্যদিকে আলেম সাংবাদিক ও খতিব আলী হাসান তৈয়ব ঘটনাটিকে কুরআনী আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ইটের বদলে ফুল, ঘৃণার বদলে ভালোবাসা—যাকে কুরআনে বলা হয়েছে ‘ইদফা বিল্লাতী হিয়া আহসান’। মুক্ত বাংলাদেশে তিনিই সত্যিকার ন্যাশনাল লিডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। এই ছবি তার একটি ছোট্ট ঝলক মাত্র।’

একই সুর ফুটে উঠেছে সাংবাদিক কাজী হামদুল্লাহ ও মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমীর বক্তব্যেও। কাজী হামদুল্লাহর মতে, ‘সবকিছুর জবাব মুখে দিতে হয় না, কিছু জবাব নিজেকে সমর্পণ করেও দেয়া যায়। ইতিহাস বলে, এই ধরনের নিরবচ্ছিন্ন আত্মসংযম ও আদবের জবাবগুলো হয় অত্যন্ত শক্তিশালী।’

তবে সামাজিক মাধ্যমে এই পদক্ষেপের মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। সবার মত একই রকম ছিল না। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মো. মোকাররম হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘ভুল মন্তব্যের পর ওই আলেমের আগে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, তারপর হুজুরের যাওয়া মানাত। এতটুকু আত্মমর্যাদাবোধ আশা করেছিলাম। এভাবে যেচে গিয়ে সাক্ষাৎ করার ফলে প্রবীণ মুরব্বিরা ভুল করেও আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ পান।’

তবুও সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতভেদের মাঝেই জ্যেষ্ঠদের সম্মান জানানো এবং ব্যক্তিগত আক্রমণকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার এই ঘটনাকে দেশের ইসলামি রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ও ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ।

About Author Information

hsnalmahmud

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সেই আল্লামা আব্দুল হক আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশংসায় ভাসছেন মজলিস আমীর

Update Time : ০৭:০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক আজাদের একটি বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মজলিস আমীরকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে আলেম সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে সব বিতর্ক ও সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আল্লামা মামুনুল হক। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জামিল মাদরাসায় গিয়ে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন সেই জ্যেষ্ঠ আলেম ও ইসলামী আন্দোলন নেতার সাথে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, দুই আলেম একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করছেন। ইটের বদলে ফুলের এমন প্রতিদান ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি আল্লামা মামুনুল হকের অনন্য শিষ্টাচার দেখে অনলাইন-অফলাইনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

আল্লামা মামুনুল হকের এই সফরকে কওমি মাদরাসার সুমহান শিক্ষার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ধর্মীয় বিশ্লেষকরা। জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও লেখক মাওলানা যুবায়ের আহমদ লিখেছেন, ‘এ আদবই কওমি মাদরাসা শেখায়, ইসলাম শেখায়। শব্দচয়ন ঠিক ছিল না, কিন্তু তিনি দেশের শীর্ষ একজন মুরব্বি আলেম। হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই বলে ফেলেছেন। এর বিপরীতে অনেকেই যখন বেয়াদবিমূলক আচরণ করছিলেন বা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছিলেন, তখন ইবনে শাইখুল হাদিস নিজেই ছুটে গেলেন সেই মুরব্বির কাছে। এতে কি তিনি ছোট হলেন? না, তার মর্যাদা আরও বাড়ল।’

অন্যদিকে আলেম সাংবাদিক ও খতিব আলী হাসান তৈয়ব ঘটনাটিকে কুরআনী আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ইটের বদলে ফুল, ঘৃণার বদলে ভালোবাসা—যাকে কুরআনে বলা হয়েছে ‘ইদফা বিল্লাতী হিয়া আহসান’। মুক্ত বাংলাদেশে তিনিই সত্যিকার ন্যাশনাল লিডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। এই ছবি তার একটি ছোট্ট ঝলক মাত্র।’

একই সুর ফুটে উঠেছে সাংবাদিক কাজী হামদুল্লাহ ও মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমীর বক্তব্যেও। কাজী হামদুল্লাহর মতে, ‘সবকিছুর জবাব মুখে দিতে হয় না, কিছু জবাব নিজেকে সমর্পণ করেও দেয়া যায়। ইতিহাস বলে, এই ধরনের নিরবচ্ছিন্ন আত্মসংযম ও আদবের জবাবগুলো হয় অত্যন্ত শক্তিশালী।’

তবে সামাজিক মাধ্যমে এই পদক্ষেপের মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। সবার মত একই রকম ছিল না। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মো. মোকাররম হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘ভুল মন্তব্যের পর ওই আলেমের আগে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, তারপর হুজুরের যাওয়া মানাত। এতটুকু আত্মমর্যাদাবোধ আশা করেছিলাম। এভাবে যেচে গিয়ে সাক্ষাৎ করার ফলে প্রবীণ মুরব্বিরা ভুল করেও আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ পান।’

তবুও সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতভেদের মাঝেই জ্যেষ্ঠদের সম্মান জানানো এবং ব্যক্তিগত আক্রমণকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার এই ঘটনাকে দেশের ইসলামি রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ও ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ।