বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলের ভেতরের ও বাইরের ষড়যন্ত্র নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ মির্জা আব্বাস। বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, অনেক গোপন তথ্য রয়েছে যা তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রীকে একাকিত্বেই বলতে চান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই দলের বিরুদ্ধে এবং আপনার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে ও সামনেও হবে। আপনি দয়া করে সাবধানে থাকবেন। আপনি উদার, কিন্তু সব জায়গায় সবসময় উদার হওয়া যাবে না। অনেক নেতা-কর্মী আপনার সামনে ভালো কথা বললেও বাইরে গিয়ে অন্য কথা বলে। আপনি যদি কখনো আমাকে একাকিত্বে জিজ্ঞেস করেন, তবে আমি আপনাকে সেই কথাগুলো বলবো। কারণ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনার অনেক ভালো কাজ কতগুলো খারাপ লোকের খারাপ কথা ও কাজে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার লক্ষ্য রাখা উচিত।’
দলের কিছু নেতা-কর্মীর কারণে বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমাদের সময়ে দু-একজন ছাড়া কারও মাধ্যমে দলের বদনাম হয়নি। অথচ এখন কিছু লোকের জন্য দলে বদনাম হচ্ছে। আপনারা যারা দায়িত্বে আছেন, সঠিক বিষয়গুলো নেতার কানে তুলে ধরুন। নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে দেশকে ফাঁকি দেওয়া।’
রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্লুত মির্জা আব্বাস বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া এই দিনটি আমার কখনোই মিস হয়নি। আমি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেছি, বেগম খালেদা জিয়ার হাতে লালিত হয়েছি এবং আপনার সঙ্গে রাজনীতি করছি। বিএনপি থেকেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। দল ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা আমার নেই।’
সংকটের মধ্যেও দলের অস্তিত্ব টিকে থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা করা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, আমরাও জেল খেটেছি—তারপরও দল টিকে আছে। দু-একজন লোকের জন্য দল বদনাম হতে পারে না। আপনারা যে যা-ই করেন না কেন, দলটাকে বাঁচিয়ে রাখবেন; কারণ এই দলটাই দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’
Reporter Name 










