চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে ওই মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী ও পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন আনসার সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হাটহাজারী থানা পুলিশের তদন্তকারী দল গত ১১ অক্টোবর ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তিন দিন পর, ১৪ অক্টোবর পুলিশ জানায়, তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আনসার সদস্য পুলিশ ও গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এক ব্যক্তি তাঁদের সেখানে নিয়ে এসে ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান। পরে সন্ধ্যার পর তাঁর ফোন থেকে ভুলবশত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হয়ে যায় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্য বক্তব্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, বিনা প্রমাণে একজন আলেম ও একজন নারীকে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ ও তা প্রচার করা আইনবিরুদ্ধ ও শরিয়তবিরোধী। এ ঘটনায় মাওলানা, তাঁর শাশুড়ি ও তাঁদের পরিবার মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যাঁরা যাচাই না করে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন কিংবা মন্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রহনন করেছেন, তাঁদের পোস্ট মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় আলেম সমাজ ও আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন বোর্ডগুলোর থানা কমিটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও ও এ-সংক্রান্ত পোস্ট সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভিডিও প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোকে তদন্তের ফলাফল ও সংশোধনী সমান গুরুত্বে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া কাউকে, বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও নারীদের হেনস্তা ও চরিত্রহনন রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষে দেশবাসীকে কোনো তথ্য বা ভিডিও যাচাই না করে বিশ্বাস, শেয়ার কিংবা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায় আল-হাইআতুল উলয়া।
Reporter Name 


















