Dhaka ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে পবিত্র রমজান ভারতে গণগ্রেপ্তারের ঢেউ, সাবেক ৪ মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩০০০ মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হলে বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক স্থানীয় নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন: পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি আব্দুল মালেকের কিছু হলে তৌহিদি জনতা ঘরে বসে থাকবে না: জমিয়ত এমপি বুলুর হিন্দু প্রীতি বক্তব্য মুসলিম ভোটারদের অবমূল্যায়িত করেছে: মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজান, সম্পাদক মুফতি আবরার ঢাবিতে নিকাব নিয়ে কটূক্তি, শিক্ষিকার শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন

বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ Time View

বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর তারিখ ও আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের প্রতিবাদ এবং টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। রোববার (১১ অক্টোবর) এ দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারী। এ সময় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাঝহারী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা আনিসুর রহমান এবং মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হানসহ শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার, সরকারপ্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে দ্বীনি কার্যক্রম এবং বিশ্ব ইজতেমার মতো বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সরকারি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রথম ধাপ ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে।

তবে গত ৯ অক্টোবর একটি গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন যে, আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সাদপন্থীদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাতে অংশ নেবেন। ওলামায়ে কেরাম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এমন বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদৌ এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া বক্তারা ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির দ্রুত বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:

১. দ্রুত চার্জশিট প্রদান: ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের দ্বারা সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করতে হবে।

২. বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ইজতেমার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও তার ছেলে ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য, সহিংসতার আহ্বান বা অপপ্রচার বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. আহত ও নিহতদের ন্যায়বিচার: বিগত সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার, চিকিৎসা ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন: প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাবলিগের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং বিশ্ব ইজতেমার শৃঙ্খলা, সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই তারা এই দাবিগুলো উত্থাপন করছেন। ইজতেমা ঘিরে সৃষ্ট সকল বিভ্রান্তি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ জানান তারা।

About Author Information

hsnalmahmud

বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি

বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি

Update Time : ০৩:৩৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর তারিখ ও আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের প্রতিবাদ এবং টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। রোববার (১১ অক্টোবর) এ দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারী। এ সময় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাঝহারী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা আনিসুর রহমান এবং মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হানসহ শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার, সরকারপ্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে দ্বীনি কার্যক্রম এবং বিশ্ব ইজতেমার মতো বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সরকারি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রথম ধাপ ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে।

তবে গত ৯ অক্টোবর একটি গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন যে, আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সাদপন্থীদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাতে অংশ নেবেন। ওলামায়ে কেরাম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এমন বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদৌ এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া বক্তারা ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির দ্রুত বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:

১. দ্রুত চার্জশিট প্রদান: ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের দ্বারা সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করতে হবে।

২. বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ইজতেমার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও তার ছেলে ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য, সহিংসতার আহ্বান বা অপপ্রচার বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. আহত ও নিহতদের ন্যায়বিচার: বিগত সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার, চিকিৎসা ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন: প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাবলিগের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং বিশ্ব ইজতেমার শৃঙ্খলা, সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই তারা এই দাবিগুলো উত্থাপন করছেন। ইজতেমা ঘিরে সৃষ্ট সকল বিভ্রান্তি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ জানান তারা।