Dhaka ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
জামাই-শাশুড়িকে নিয়ে ‍মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের শাস্তি চায় হাইয়াতুল উলয়া কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হকের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল ডেঙ্গু প্রতিরোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আরো ৩০৫ জন সহকারী নেগরান ও মুমতাহিন নিয়োগ দেবে আল-হাইআতুল উলয়া সৌদিতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও লাশ আনতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ চায় হেফাজত ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে পবিত্র রমজান ভারতে গণগ্রেপ্তারের ঢেউ, সাবেক ৪ মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩০০০ মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হলে বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দেওবন্দের অবদান নিয়ে ঢাবি শিবির সভাপতির ভূয়সী প্রশংসা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • ৯৬ Time View

আবু সাদিক কায়েম সভাপতি:শিবির ঢাবি

উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষার এক গৌরবময় নাম দারুল উলুম দেওবন্দ। এটি শুধু একটি মাদরাসা নয়, বরং এক ঐতিহাসিক চেতনার নাম, একটি আলোকবর্তিকা—যা যুগ যুগ ধরে দ্বীনি ইলম, আত্মশক্তি এবং স্বাধীনতার বাণী ছড়িয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে দারুল উলুম দেওবন্দের ভূমিকা স্মরণ করে ফেসবুকে নিজের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্রনেতা, জুলাই যোদ্ধা সাদিক কায়েম।

তিনি লেখেন, “দারুল উলুম দেওবন্দ—ইলমের আলোকবর্তিকা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রদর্শক। এই মাদরাসাটি ১৮৬৬ সনের ৩০ মে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আজ এটি বিশ্বব্যাপী ইসলামী শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।”

দারুল উলুম দেওবন্দ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায়ও রেখেছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। মাওলানা কাসেম নানুতুবি (রহ.) ও মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.)-এর মতো মনীষীদের নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এক সময় পরিণত হয় মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক ও সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘাঁটিতে।

সাদিক কায়েম স্মরণ করিয়ে দেন, এই মাদরাসার প্রথম ছাত্র ছিলেন মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.), যিনি পরবর্তীতে এর প্রধান শিক্ষক হন এবং ঐতিহাসিক ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’-এর মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

দেওবন্দের ‘দরসে নিজামী’ পাঠ্যক্রম আজও সমগ্র বিশ্বে ইসলামী শিক্ষার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের অসংখ্য মাদরাসা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ-আমেরিকার মুসলিম সমাজেও দেওবন্দি দর্শনের দাওয়াত ও প্রভাব দৃশ্যমান। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাবলিগ জামাত আন্দোলনের জন্মও এই দেওবন্দেই।

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টের শেষাংশে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে লেখেন, “মহান আল্লাহ এই দ্বীনি ইলমের মারকাযকে কবুল ও মঞ্জুর করে নিন এবং গোটা দুনিয়াতে ঈমান ও ইসলামের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় অব্যাহত ভূমিকা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।”

দারুল উলুম দেওবন্দের এই ঐতিহাসিক ও শিক্ষাগত অবদান নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস।

Tag :
About Author Information

জামাই-শাশুড়িকে নিয়ে ‍মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের শাস্তি চায় হাইয়াতুল উলয়া

দেওবন্দের অবদান নিয়ে ঢাবি শিবির সভাপতির ভূয়সী প্রশংসা

Update Time : ০৮:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষার এক গৌরবময় নাম দারুল উলুম দেওবন্দ। এটি শুধু একটি মাদরাসা নয়, বরং এক ঐতিহাসিক চেতনার নাম, একটি আলোকবর্তিকা—যা যুগ যুগ ধরে দ্বীনি ইলম, আত্মশক্তি এবং স্বাধীনতার বাণী ছড়িয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে দারুল উলুম দেওবন্দের ভূমিকা স্মরণ করে ফেসবুকে নিজের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্রনেতা, জুলাই যোদ্ধা সাদিক কায়েম।

তিনি লেখেন, “দারুল উলুম দেওবন্দ—ইলমের আলোকবর্তিকা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রদর্শক। এই মাদরাসাটি ১৮৬৬ সনের ৩০ মে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আজ এটি বিশ্বব্যাপী ইসলামী শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।”

দারুল উলুম দেওবন্দ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায়ও রেখেছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। মাওলানা কাসেম নানুতুবি (রহ.) ও মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.)-এর মতো মনীষীদের নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এক সময় পরিণত হয় মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক ও সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘাঁটিতে।

সাদিক কায়েম স্মরণ করিয়ে দেন, এই মাদরাসার প্রথম ছাত্র ছিলেন মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.), যিনি পরবর্তীতে এর প্রধান শিক্ষক হন এবং ঐতিহাসিক ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’-এর মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

দেওবন্দের ‘দরসে নিজামী’ পাঠ্যক্রম আজও সমগ্র বিশ্বে ইসলামী শিক্ষার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের অসংখ্য মাদরাসা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ-আমেরিকার মুসলিম সমাজেও দেওবন্দি দর্শনের দাওয়াত ও প্রভাব দৃশ্যমান। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাবলিগ জামাত আন্দোলনের জন্মও এই দেওবন্দেই।

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টের শেষাংশে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে লেখেন, “মহান আল্লাহ এই দ্বীনি ইলমের মারকাযকে কবুল ও মঞ্জুর করে নিন এবং গোটা দুনিয়াতে ঈমান ও ইসলামের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় অব্যাহত ভূমিকা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।”

দারুল উলুম দেওবন্দের এই ঐতিহাসিক ও শিক্ষাগত অবদান নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস।