সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর পরিচালিত দেশের শীর্ষ ইসলামি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা থেকে এই ফতোয়াটি দেওয়া হয়। ফতোয়ায় পুত্রসন্তান না থাকলে কন্যাসন্তানকে উত্তরাধিকার থেকে আংশিক বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘জীবনস্বত্ব সংরক্ষণ করে হেবা’ প্রবর্তনের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী, বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য বলে মত দেওয়া হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মো. আশিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারকাযুদ দাওয়াহর আমীনুত তালীম মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক শরীয়তের দলিল ও ফিকহের আলোকে এই অভিমত তুলে ধরেন।
ফতোয়ায় বলা হয়, প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে জীবিত অবস্থায় দাতা সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও আয় ভোগ করবেন এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তি কন্যার কাছে চলে যাবে—এমন ব্যবস্থা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এর মাধ্যমে কার্যত ইসলামি উত্তরাধিকার আইনকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়। ইসলামি উত্তরাধিকার আইন কোরআন-সুন্নাহয় সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। কে কতটুকু সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন, তা আল্লাহ তাআলা নিজে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ফলে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো যুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারিত মিরাসের বিধানে পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এতে আরও বলা হয়, বাহ্যিকভাবে এটিকে ‘হেবা’ বা দান হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও প্রকৃত বিচারে এটি অন্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা একটি অবৈধ ব্যবস্থা। প্রকৃত হেবা সম্পন্ন হলে সম্পত্তি দাতার মালিকানা থেকে বের হয়ে গ্রহীতার মালিকানায় চলে যায়। দাতা নিজের জন্য আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন না, যা প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ফতোয়ায় কন্যাকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি দেওয়ার বৈধ পথও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, কোনো ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তার কন্যাকে সাধারণ হেবা করতে পারেন। তবে হেবা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সম্পত্তির মালিকানা ও দখল কন্যার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। দাতা নিজের জন্য সম্পত্তির আজীবন ভোগ বা জীবনস্বত্ব সংরক্ষণের শর্ত আরোপ করলে তা শরীয়তসম্মত হেবা বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, কন্যাকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুর পর কে উত্তরাধিকারী হবে—তা পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে হেবার কাঠামো ব্যবহার করা জায়েজ নয়।
ফতোয়ায় স্বীকার করা হয় যে, বর্তমানে অনেক পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কন্যা ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী আত্মীয়দের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ায় বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সামাজিক বাস্তবতা ঐশী উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের কারণ হতে পারে না। বরং শরীয়তসম্মত সাধারণ হেবা ও জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টনের মতো বৈধ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে স্পষ্ট করা হয় যে, আল্লাহ তাআলা যে উত্তরাধিকার বিধান নির্ধারণ করেছেন, তা মানুষের পছন্দ-অপছন্দ বা পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। পুরো ফতোয়াটি পড়ুন
Reporter Name 












