Dhaka ০৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ৭ দাবি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ইস্যুতে হেফাজতের আপত্তি, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছে আলেমরা সরকার কার খপ্পরে পড়ে এ কাজটা করলো আমার বুঝে আসছে না: আব্বাসী ‘ধর্ম প্রতিমন্ত্রী’ নিয়োগ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আপত্তি, যা বললেন শামীম কায়সার ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন ‘বিদআত’, সুন্নাহ অনুসরণের আহ্বান কাবার ইমামের লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত বাতিল চায় হেফাজতে ইসলাম  মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েও কেন ভোট দিল ইসলামী আন্দোলন? গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়ার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি আলেমদের নিয়োগে ইতিবাচক বার্তা শিক্ষমন্ত্রীর

ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ৭ দাবি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

সংসদে পাস হওয়া ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের অভিযোগে ‘হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। পাশাপাশি চরম দ্বীন বিকৃতিকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণাসহ সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেছেন দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামারা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি ও ইসলামবিরোধী মতবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ পরিচালনায় কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

প্রধান আলোচক ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই) এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। এছাড়া আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী এবং হেফাজত মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ বক্তব্য রাখেন।

কনভেনশনে আলেমগণ বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম ও মতাদর্শ দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান হানাফী মাযহাবের অনুসারী। এদেশের মানুষ সালাফী শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চাই না। প্রয়োজনে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হোক।

ড. সরোয়ার বলেন, সংসদে পাস হওয়া ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো বিতর্কিত আদর্শ বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশন থেকে ঘোষিত ৭ দফা দাবি

১. আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৪. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৫. জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবী ও সাহাবীদের জীবনী সংযুক্ত করা।

৬. শ্রম আইন থেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি বাতিল করে দ্বিমুখী লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা।

৭. জাতীয় পর্যায়ে মুসলিম পারিবারিক ও পার্সোনাল বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ বেঞ্চ গঠন করা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাংবিধানিক অধিকার ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা ও শালীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

About Author Information

hsnalmahmud

Popular Post

ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ৭ দাবি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির

ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ৭ দাবি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির

Update Time : ০৫:১০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সংসদে পাস হওয়া ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের অভিযোগে ‘হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। পাশাপাশি চরম দ্বীন বিকৃতিকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণাসহ সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেছেন দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামারা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি ও ইসলামবিরোধী মতবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ পরিচালনায় কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

প্রধান আলোচক ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই) এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। এছাড়া আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী এবং হেফাজত মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ বক্তব্য রাখেন।

কনভেনশনে আলেমগণ বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম ও মতাদর্শ দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান হানাফী মাযহাবের অনুসারী। এদেশের মানুষ সালাফী শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চাই না। প্রয়োজনে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হোক।

ড. সরোয়ার বলেন, সংসদে পাস হওয়া ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো বিতর্কিত আদর্শ বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশন থেকে ঘোষিত ৭ দফা দাবি

১. আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৪. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৫. জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবী ও সাহাবীদের জীবনী সংযুক্ত করা।

৬. শ্রম আইন থেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি বাতিল করে দ্বিমুখী লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা।

৭. জাতীয় পর্যায়ে মুসলিম পারিবারিক ও পার্সোনাল বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ বেঞ্চ গঠন করা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাংবিধানিক অধিকার ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা ও শালীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।