ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের শুরুর দিকে গাজা সিটিতে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের নিচ থেকে সম্প্রতি উদ্ধার করা ৭৫ জন ফিলিস্তিনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নারী ও শিশুসহ নিহত এসব মানুষের জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন।
গাজা সিটির দারাজ স্পোর্টস ক্লাবের বাইরে জানাজা শেষে নিহতদের অবশেষ শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো এসব অবশেষ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই স্থানে রাখা হয়েছিল, যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মাজদালারি আনাদোলুকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব গাজা সিটির দারাজ এলাকায় ধ্বংস হওয়া বেশ কয়েকটি বাড়িঘরের নিচ থেকে এসব অবশেষ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে বাসিন্দারা ভেতরে থাকা অবস্থাতেই ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। নিহতরা প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য, যার মধ্যে অন্যান্য স্থান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরাও ছিলেন।
মাজদালারি জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ভারী সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই উদ্ধার অভিযানটি ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের মরদেহ উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্সের গৃহীত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ, যা গত ১৯ জুলাই শুরু হয়েছিল।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সে সময় জানিয়েছিলেন, এই পর্যায়ে গাজা সিটি এবং উপত্যকার উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়িগুলোতে প্রায় ১,০৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রথম ধূপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের নিচে চাপা পড়া ৫৫৯ জনের মধ্যে থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও অবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে সীমিত সম্পদের কারণে উদ্ধারকারী দল প্রায় ২২৬ জনের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
বাসাল গত ৭ অক্টোবর আনাদোলুকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৮ হাজারের বেশি নিখোঁজ ফিলিস্তিনি চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে উপলব্ধ সম্পদ দিয়ে তাদের উদ্ধার করতে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, ইসরায়েল উপত্যকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও দলগুলো এই প্রতিশ্রুতিসহ অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ব্যর্থতার অভিযোগ করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি
Reporter Name 
























