Dhaka ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
জামাই-শাশুড়িকে নিয়ে ‍মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের শাস্তি চায় হাইয়াতুল উলয়া কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হকের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল ডেঙ্গু প্রতিরোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আরো ৩০৫ জন সহকারী নেগরান ও মুমতাহিন নিয়োগ দেবে আল-হাইআতুল উলয়া সৌদিতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও লাশ আনতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ চায় হেফাজত ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার বিশ্ব ইজতেমার সুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখের ৫ দাবি ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে পবিত্র রমজান ভারতে গণগ্রেপ্তারের ঢেউ, সাবেক ৪ মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩০০০ মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হলে বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ নয়: হামাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আইডিয়াল টাইমস গাজা, ৩ আগস্ট ২০২৫:


একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানায়, “জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র প্রতিরোধের অধিকার আমরা ত্যাগ করব না।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের প্রধান একটি শর্ত, অর্থাৎ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, প্রত্যাখ্যান করা হলো।

এর আগে কাতারের দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির একটি প্রস্তাব আলোচিত হয়। তবে আলোচনাটি গত সপ্তাহে অচলাবস্থার মধ্যে শেষ হয়।

রয়টার্স জানায়, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গৃহীত প্রস্তাবে ফ্রান্স ও সৌদি আরব সমর্থন দেয়। তাতে একটি দ্বি-রাষ্ট্রীক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা হয়, যার অংশ হিসেবে হামাসকে অস্ত্র পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধই তাদের ন্যায্য অধিকার।

হামাস ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসছে। চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বরাবরই অটুট রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র আসলে ইসরায়েল ধ্বংসের প্ল্যাটফর্ম হবে।” তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই ইসরায়েলের হাতেই থাকতে হবে।”

অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলা ও গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এসব দেশের পদক্ষেপকে নেতানিয়াহু ‘সন্ত্রাসবাদ পুরস্কৃত করার শামিল’ বলে মন্তব্য করলেও, বিশ্লেষকরা এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ১২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

সর্বশেষ দোহা আলোচনার ভেঙে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে দায়ী করেছে। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে একটিই বার্তা এসেছে— “স্বাধীনতা ছাড়া শান্তি নয়”।

About Author Information

জামাই-শাশুড়িকে নিয়ে ‍মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের শাস্তি চায় হাইয়াতুল উলয়া

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ নয়: হামাস

Update Time : ০৪:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আইডিয়াল টাইমস গাজা, ৩ আগস্ট ২০২৫:


একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানায়, “জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র প্রতিরোধের অধিকার আমরা ত্যাগ করব না।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের প্রধান একটি শর্ত, অর্থাৎ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, প্রত্যাখ্যান করা হলো।

এর আগে কাতারের দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির একটি প্রস্তাব আলোচিত হয়। তবে আলোচনাটি গত সপ্তাহে অচলাবস্থার মধ্যে শেষ হয়।

রয়টার্স জানায়, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গৃহীত প্রস্তাবে ফ্রান্স ও সৌদি আরব সমর্থন দেয়। তাতে একটি দ্বি-রাষ্ট্রীক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা হয়, যার অংশ হিসেবে হামাসকে অস্ত্র পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধই তাদের ন্যায্য অধিকার।

হামাস ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসছে। চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বরাবরই অটুট রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র আসলে ইসরায়েল ধ্বংসের প্ল্যাটফর্ম হবে।” তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই ইসরায়েলের হাতেই থাকতে হবে।”

অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলা ও গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এসব দেশের পদক্ষেপকে নেতানিয়াহু ‘সন্ত্রাসবাদ পুরস্কৃত করার শামিল’ বলে মন্তব্য করলেও, বিশ্লেষকরা এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ১২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

সর্বশেষ দোহা আলোচনার ভেঙে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে দায়ী করেছে। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে একটিই বার্তা এসেছে— “স্বাধীনতা ছাড়া শান্তি নয়”।