Dhaka ১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
পরিবারসহ দেশ ছাড়লেন জামায়াতের ৩৪ এমপি হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি, যা জানাল কওমি শিক্ষক পরিষদ গাজী নজরুলের ৪ ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ঢাকার এমপি ভবনে মিলল সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ বিশ্বজয়ী হাফেজদের দেওয়া সেই বিতর্কিত বই ফেরত নিলো ধর্মমন্ত্রণালয় কওমি মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ, ছাত্র সুরক্ষা কমিটি কার্যকরের নির্দেশ হাইআতুল উলয়ার সরকারি চাকরি পেয়েই স্বামীকে তালাক ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৫.১ বিলিয়ন ডলার: পেন্টাগন সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা হতে পারে: জামায়াত আমির হাফেজদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সমকামী লেখকের বই: বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তদন্ত দাবি ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের

হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি, যা জানাল কওমি শিক্ষক পরিষদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদপ্রাপ্ত আলেম, হাফেজ ও কারীদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং পেশাগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ’। একই সঙ্গে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে আলেমদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য সুযোগ সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)-এর পক্ষে পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেয়।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই আবেদনটি নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীস্থ আল হাই‌আতুল উলয়া বাংলাদেশের অফিসে যান। সেই সময় হাইআর অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি গ্রহণ করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৪৮ নম্বর আইনের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও নিসাব অনুসরণের বিষয়টিও আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই সনদের স্বীকৃতির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কওমি সনদধারী আলেমদের শিক্ষা ও পেশাগত মর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত পরিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট এমপিও নীতিমালায় সহকারী মৌলভী-ক্বারী ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে কওমি সনদধারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এনটিআরসিএ পরীক্ষায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বাস্তবতা বিবেচনার দাবি

আবেদনে বলা হয়, এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরীক্ষা শিক্ষকতায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যম। কিন্তু প্রচলিত পরীক্ষার কাঠামোয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের মতো সাধারণ বিষয়ে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে কওমি শিক্ষার্থীরা কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি ভাষা, আকাইদ, কিরাআত, হিফজসহ ইসলামী জ্ঞানচর্চায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন।

এ কারণে কওমি শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিক্ষাগত পটভূমি ও বিশেষায়িত জ্ঞান বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক বা উপযোগী মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এতে কওমি আলেমদের অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও কওমি শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আহ্বান

আবেদনে এনটিআরসিএর বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে কওমি শিক্ষার্থীদের বাস্তবতার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের সঙ্গে একই পদ্ধতিতে কওমি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হলে তাদের বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষার যথাযথ প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে বলে এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, কওমি মাদরাসার নিজস্ব শিক্ষাদর্শ, নিসাব ও দারুল উলূম দেওবন্দের ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে। কওমি মাদরাসাকে কেবল সাধারণ চাকরিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত না করে এর মৌলিক লক্ষ্য, স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গ্রেড-বেতন ও পদোন্নতিতে অসংগতি দূর করার দাবি

কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের আবেদনে সহকারী মৌলভী-ক্বারী ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নির্ধারিত গ্রেড ও বেতন-স্কেল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাওরায়ে হাদিস, হাফেজ ও ক্বারীর মতো বিশেষায়িত ধর্মীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের যদি তুলনামূলক নিম্ন গ্রেডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলে স্বীকৃত সনদের বাস্তব মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রের সুযোগের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে চাকরিতে প্রবেশের পর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুস্পষ্ট পথ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কুরআন শিক্ষকদের মর্যাদা ও ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান
আবেদনে কুরআন ও কুরআন শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। কুরআন মাজিদকে মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানের উৎস উল্লেখ করে হিফজ, কিরাআত ও তিলাওয়াতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের পেশাগত মর্যাদা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া কওমি আলেমদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিবেশ, পর্দা, তাকওয়া ও আমল-আখলাকের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কওমি শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

আবেদনের শেষাংশে বলা হয়, কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বাস্তব মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে কওমি আলেমদের ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এর সঙ্গে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইসলামী শিক্ষার ধারাবাহিকতাও জড়িত।

এ বিষয়ে কওমি মাদরাসা বোর্ডসমূহ, আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।

আবেদনে ২০১৮ সালের আইনে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তার যে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে কওমি আলেমদের সম্মানজনক পদমর্যাদা, ন্যায্য বেতন-ভাতা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং পেশাগত উন্নতির পথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

About Author Information

hsnalmahmud

Popular Post

পরিবারসহ দেশ ছাড়লেন জামায়াতের ৩৪ এমপি

হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি, যা জানাল কওমি শিক্ষক পরিষদ

Update Time : ০৫:২৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদপ্রাপ্ত আলেম, হাফেজ ও কারীদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং পেশাগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ’। একই সঙ্গে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে আলেমদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য সুযোগ সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)-এর পক্ষে পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেয়।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই আবেদনটি নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীস্থ আল হাই‌আতুল উলয়া বাংলাদেশের অফিসে যান। সেই সময় হাইআর অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি গ্রহণ করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৪৮ নম্বর আইনের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও নিসাব অনুসরণের বিষয়টিও আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই সনদের স্বীকৃতির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কওমি সনদধারী আলেমদের শিক্ষা ও পেশাগত মর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত পরিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট এমপিও নীতিমালায় সহকারী মৌলভী-ক্বারী ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে কওমি সনদধারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এনটিআরসিএ পরীক্ষায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বাস্তবতা বিবেচনার দাবি

আবেদনে বলা হয়, এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরীক্ষা শিক্ষকতায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যম। কিন্তু প্রচলিত পরীক্ষার কাঠামোয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের মতো সাধারণ বিষয়ে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে কওমি শিক্ষার্থীরা কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি ভাষা, আকাইদ, কিরাআত, হিফজসহ ইসলামী জ্ঞানচর্চায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন।

এ কারণে কওমি শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিক্ষাগত পটভূমি ও বিশেষায়িত জ্ঞান বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক বা উপযোগী মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এতে কওমি আলেমদের অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও কওমি শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আহ্বান

আবেদনে এনটিআরসিএর বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে কওমি শিক্ষার্থীদের বাস্তবতার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের সঙ্গে একই পদ্ধতিতে কওমি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হলে তাদের বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষার যথাযথ প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে বলে এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, কওমি মাদরাসার নিজস্ব শিক্ষাদর্শ, নিসাব ও দারুল উলূম দেওবন্দের ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে। কওমি মাদরাসাকে কেবল সাধারণ চাকরিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত না করে এর মৌলিক লক্ষ্য, স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গ্রেড-বেতন ও পদোন্নতিতে অসংগতি দূর করার দাবি

কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের আবেদনে সহকারী মৌলভী-ক্বারী ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নির্ধারিত গ্রেড ও বেতন-স্কেল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাওরায়ে হাদিস, হাফেজ ও ক্বারীর মতো বিশেষায়িত ধর্মীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের যদি তুলনামূলক নিম্ন গ্রেডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলে স্বীকৃত সনদের বাস্তব মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রের সুযোগের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে চাকরিতে প্রবেশের পর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুস্পষ্ট পথ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কুরআন শিক্ষকদের মর্যাদা ও ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান
আবেদনে কুরআন ও কুরআন শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। কুরআন মাজিদকে মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানের উৎস উল্লেখ করে হিফজ, কিরাআত ও তিলাওয়াতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের পেশাগত মর্যাদা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া কওমি আলেমদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিবেশ, পর্দা, তাকওয়া ও আমল-আখলাকের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কওমি শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

আবেদনের শেষাংশে বলা হয়, কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বাস্তব মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে কওমি আলেমদের ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এর সঙ্গে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইসলামী শিক্ষার ধারাবাহিকতাও জড়িত।

এ বিষয়ে কওমি মাদরাসা বোর্ডসমূহ, আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।

আবেদনে ২০১৮ সালের আইনে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তার যে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে কওমি আলেমদের সম্মানজনক পদমর্যাদা, ন্যায্য বেতন-ভাতা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং পেশাগত উন্নতির পথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।