Dhaka ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
৬ দিন বন্ধ থাকছে ১৯ ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা দাম্পত্যজীবনে থাকতে পারলেন না প্রীতম-শেহতাজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ‘৭ নভেম্বর’ সাধারণ ছুটি ঘোষণা বাংলাদেশি মনে করে বিএসএফের গুলি, রংপুরে চিকিৎসাধীন ভারতীয় ২ নাগরিক মাদক সম্রাট ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়নে ২ পুলিশ গ্রেপ্তার, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: পীর সাহেব দেওনা দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষা শুরু ২১ জানুয়ারি, ফি জমার শেষ সময় ১ নভেম্বর ‘মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. ছিলেন ইলম ও আমলের অনন্য সাধক’ মুনাফেকি করেছে বিএনপি : জুনায়েদ আল হাবিব ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বণ্টনে ইনসাফসহ ১০ প্রস্তাব জমিয়তের

কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: পীর সাহেব দেওনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ Time View

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা বলেছেন, কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বেতনের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য নেই। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা মূলত আগামী প্রজন্মের কাছে ইলমের আমানত পৌঁছে দেওয়াকে নিজেদের ঈমানি দায়িত্ব মনে করেই শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো এ দেশের সাধারণ মানুষের দান-অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। অথচ সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ ও বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে।

কওমি মাদ্রাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে পীর সাহেব দেওনা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ উঠলেই যথাযথ তদন্ত ছাড়াই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চলমান গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও কওমি মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কোনো অভিযোগ উঠলে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে। তদন্ত ছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পীর সাহেব দেওনা বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ ও নির্যাতনের শিকার মানুষ বিচার পেতে দীর্ঘদিন আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সেখানে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে দিন দিন অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের মতো নানা অপরাধী চক্র তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকারও কার্যকরভাবে সফল হচ্ছে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে শিশুগ্যাংও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে একটি প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আল্লাহর বিশেষ রহমতে পরিচালিত হচ্ছে। কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অতীতে যেমন নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। দ্বীনি শিক্ষা ও কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

About Author Information

hsnalmahmud

Popular Post

৬ দিন বন্ধ থাকছে ১৯ ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা

কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: পীর সাহেব দেওনা

Update Time : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা বলেছেন, কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বেতনের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য নেই। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা মূলত আগামী প্রজন্মের কাছে ইলমের আমানত পৌঁছে দেওয়াকে নিজেদের ঈমানি দায়িত্ব মনে করেই শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো এ দেশের সাধারণ মানুষের দান-অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। অথচ সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ ও বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে।

কওমি মাদ্রাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে পীর সাহেব দেওনা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ উঠলেই যথাযথ তদন্ত ছাড়াই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চলমান গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও কওমি মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কোনো অভিযোগ উঠলে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে। তদন্ত ছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পীর সাহেব দেওনা বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ ও নির্যাতনের শিকার মানুষ বিচার পেতে দীর্ঘদিন আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সেখানে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে দিন দিন অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের মতো নানা অপরাধী চক্র তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকারও কার্যকরভাবে সফল হচ্ছে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে শিশুগ্যাংও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে একটি প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আল্লাহর বিশেষ রহমতে পরিচালিত হচ্ছে। কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অতীতে যেমন নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। দ্বীনি শিক্ষা ও কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।