Dhaka ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
যৌন নিপীড়নের মামলা, ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার জরিমানা দিলেন ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মুফতি তাকি উসমানীর ফতোয়া, ব্যাখ্যা চাইল পাকিস্তান সরকার নববী মসজিদে প্রথমবার চালু হলো ডিজিটাল দারস জায়নবাদী শাসনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি’ — মোজতবা খামেনি শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ, এলাকায় উদ্বেগ ২০২৮ শিক্ষাক্রমে আসছে চার নতুন বিষয় বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদরাসা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর ১ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবিতে কুমিল্লায় হেফাজতের বিক্ষোভ মাদরাসাতুল মারওয়াহ’র হিফজ ছাত্রদের সবক সমাপনী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত
নেতৃত্ব ছড়িয়ে দিলে গণতন্ত্র জন্মায়, কিন্তু বাছবিচারহীনভাবে ছড়ালে শুধু নৈরাজ্যই বাড়ে।

সবাইকে রাজা বানিয়ে দিলে রাজ্যের অবস্থা হবে কাহিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • ৪৫ Time View

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, পক্ষ-বিপক্ষ আলোচনা জমে তো উঠেছে, কিন্তু আমি একটি জিনিস (নিজের চিন্তায়) এখনো ঠিক করতে পারছি না, এদেশে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নির্মাণের জায়গাটা কতটুকু বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত? এখানে ঘুষ-দুর্নীতি, আস্থার ঘাটতি, বিচার ও আইন-শৃঙ্খলার জটিলতা, ভোট বেচাকেনা, এমনকি এমপি বেচাকেনার পরিস্থিতিও আছে। একক নেতৃত্ব, একনায়কত্ব, কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব স্বৈরাচারের রাস্তা খুলে দেয়, এটা ঠিক আছে। এজন্য কিছুটা ভারসাম্যের চেষ্টা করা যায়।

সংস্কারের নামে সবকিছু ফ্লাট করে দেওয়া এবং অল্প টাকায় মাথা বেচে দেওয়া বিভিন্ন লোক-শ্রেণিকে নীতি-নির্ধারক, সিদ্ধান্ত-নির্মাতা বানিয়ে দেওয়া কতটা ঠিক হচ্ছে, এই দেশে, এই দেশের অনৈতিকতার বাস্তবতায়, আমার গভীর সংশয় আছে। অনেক কিছু নিয়েই ভয় হচ্ছে।

বিএনপির ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ায় যতটুকু আস্থা আপনি রাখতে পারবেন, এটা কি তার পরের স্থায়ী কমিটির নেতা কিংবা আরো পরের এমপি মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে আপনার থাকবে? থাকার কথা? দেশের চলমান অর্থনৈতিক, পারিপার্শ্বিক, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কী মনে হয়? নাকি নানা রকম সংস্কার করে কেন্দ্র তো ভাঙবেন, কিন্তু দেশের ও সার্বভৌমত্বের জন্য অনেক বিশৃঙ্খলার পথও তৈরি করছেন কি না এটা চিন্তা করা মনে হয় দরকার।

একই কথা অন্যান্য অনেক দলের ক্ষেত্রেও খাটে। এদেশে নেতৃত্ব পর্যায়ে আর্থিক কেনাবেচা, অনৈতিকতা, পর-দেশের কাছে নতজানুতা এবং ভিনদেশী গোয়েন্দাদের ট্রেপ ও ফাঁদের কত ব্যাপার স্যাপার থাকে। দেখেন, বুঝেশুনে অগ্রসর হোন।

সংস্কার ও ঐক্যমত্য নিয়ে ভেতরে-বাইরে যারা কাজ করছেন এবং নানা রকম পরিকল্পনা করছেন, তারা এদেশের বাজার ভাও, দালাল খরিদ্দার কালচার বুঝেশুনে সংস্কার ও ভারসাম্যের ছক সাজানোর চেষ্টা করলে মনে হয় ভালো করবেন। সুন্দর দেখলেই সব সুন্দর হয় না, সব সুন্দর একসঙ্গে নিতে হয় না। সব মিষ্টি আর স্বাদ সব পেটে হজম হয় না। এত বড় বিপ্লবের পর বিচারটা ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না যে দেশে, ভুক্তভোগী ও বিপ্লবীদেরই অনেকে লোভে চাপে দরকারে যেখানে চোরা ও ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে গলা মিলাচ্ছে, সেখানে সবাইকে রাজা বানিয়ে দিলে রাজ্যের অবস্থা কাহিল হয়ে যাওয়ার কথা। তবে কিছু সংস্কার, কিছু শুদ্ধি, কিছু ভারসাম্য তো হওয়াই উচিত। তারপর, দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন।

About Author Information

নেতৃত্ব ছড়িয়ে দিলে গণতন্ত্র জন্মায়, কিন্তু বাছবিচারহীনভাবে ছড়ালে শুধু নৈরাজ্যই বাড়ে।

সবাইকে রাজা বানিয়ে দিলে রাজ্যের অবস্থা হবে কাহিল

Update Time : ০৬:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, পক্ষ-বিপক্ষ আলোচনা জমে তো উঠেছে, কিন্তু আমি একটি জিনিস (নিজের চিন্তায়) এখনো ঠিক করতে পারছি না, এদেশে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নির্মাণের জায়গাটা কতটুকু বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত? এখানে ঘুষ-দুর্নীতি, আস্থার ঘাটতি, বিচার ও আইন-শৃঙ্খলার জটিলতা, ভোট বেচাকেনা, এমনকি এমপি বেচাকেনার পরিস্থিতিও আছে। একক নেতৃত্ব, একনায়কত্ব, কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব স্বৈরাচারের রাস্তা খুলে দেয়, এটা ঠিক আছে। এজন্য কিছুটা ভারসাম্যের চেষ্টা করা যায়।

সংস্কারের নামে সবকিছু ফ্লাট করে দেওয়া এবং অল্প টাকায় মাথা বেচে দেওয়া বিভিন্ন লোক-শ্রেণিকে নীতি-নির্ধারক, সিদ্ধান্ত-নির্মাতা বানিয়ে দেওয়া কতটা ঠিক হচ্ছে, এই দেশে, এই দেশের অনৈতিকতার বাস্তবতায়, আমার গভীর সংশয় আছে। অনেক কিছু নিয়েই ভয় হচ্ছে।

বিএনপির ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ায় যতটুকু আস্থা আপনি রাখতে পারবেন, এটা কি তার পরের স্থায়ী কমিটির নেতা কিংবা আরো পরের এমপি মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে আপনার থাকবে? থাকার কথা? দেশের চলমান অর্থনৈতিক, পারিপার্শ্বিক, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কী মনে হয়? নাকি নানা রকম সংস্কার করে কেন্দ্র তো ভাঙবেন, কিন্তু দেশের ও সার্বভৌমত্বের জন্য অনেক বিশৃঙ্খলার পথও তৈরি করছেন কি না এটা চিন্তা করা মনে হয় দরকার।

একই কথা অন্যান্য অনেক দলের ক্ষেত্রেও খাটে। এদেশে নেতৃত্ব পর্যায়ে আর্থিক কেনাবেচা, অনৈতিকতা, পর-দেশের কাছে নতজানুতা এবং ভিনদেশী গোয়েন্দাদের ট্রেপ ও ফাঁদের কত ব্যাপার স্যাপার থাকে। দেখেন, বুঝেশুনে অগ্রসর হোন।

সংস্কার ও ঐক্যমত্য নিয়ে ভেতরে-বাইরে যারা কাজ করছেন এবং নানা রকম পরিকল্পনা করছেন, তারা এদেশের বাজার ভাও, দালাল খরিদ্দার কালচার বুঝেশুনে সংস্কার ও ভারসাম্যের ছক সাজানোর চেষ্টা করলে মনে হয় ভালো করবেন। সুন্দর দেখলেই সব সুন্দর হয় না, সব সুন্দর একসঙ্গে নিতে হয় না। সব মিষ্টি আর স্বাদ সব পেটে হজম হয় না। এত বড় বিপ্লবের পর বিচারটা ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না যে দেশে, ভুক্তভোগী ও বিপ্লবীদেরই অনেকে লোভে চাপে দরকারে যেখানে চোরা ও ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে গলা মিলাচ্ছে, সেখানে সবাইকে রাজা বানিয়ে দিলে রাজ্যের অবস্থা কাহিল হয়ে যাওয়ার কথা। তবে কিছু সংস্কার, কিছু শুদ্ধি, কিছু ভারসাম্য তো হওয়াই উচিত। তারপর, দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন।