Dhaka ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ডিএমপিতে বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে ৮ কর্মকর্তা ঢাকার যানজট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, নেওয়া হল একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য মিশর সফরে লেখক পরিষদ সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে উছমান গনী এক মিনিটের পাঠশালা । পর্ব ১ । জুলুম সম্পর্কিত হাদিস খালের কচুরিপানা পরিষ্কার, প্রশংসায় ভাসছেন আলেম এমপি মধ্যরাতে বাইকে অচেতন তরুণী, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসের সূত্রপাত যেভাবে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ৭ দাবি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ইস্যুতে হেফাজতের আপত্তি, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছে আলেমরা

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মুফতি তাকি উসমানীর ফতোয়া, ব্যাখ্যা চাইল পাকিস্তান সরকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ Time View

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে ইসলামি শরিয়াহসম্মত নয়—দারুল উলুম করাচির এমন ফতোয়ার পর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির ভার্চুয়াল সম্পদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (পিভারা) বলেছে, জল্পনাভিত্তিক (স্পেকুলেটিভ) ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বাস্তব সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল টোকেনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বুধবার (১৫ জুলাই) পিভারার চেয়ারম্যান বিলাল বিন সাকিব জানান, গত জুনে দারুল উলুম করাচি একটি ফতোয়ায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাবেচাকে শরিয়াহসম্মত নয় বলে অভিমত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি চায়—সব ধরনের ডিজিটাল সম্পদকে এক কাতারে না ফেলে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হোক। কারণ, সব ডিজিটাল সম্পদের প্রকৃতি ও ব্যবহার এক নয়।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী স্বাক্ষরিত দারুল উলুম করাচির ফতোয়ায় বলা হয়, বর্তমান অবস্থায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে স্বীকৃত ‘মাল’ বা বৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে এটি বৈধ অর্থপ্রদানের মাধ্যমও নয়। ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও আলেম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানীসহ একদল আলেম এই ফতোয়া প্রণয়নে অংশ নেন। মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বই ও অনলাইন কোর্সের মূল্য পরিশোধ করা বৈধ কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফতোয়াটি দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে কাজ করছে। সরকারি সম্পদের টোকেনাইজেশন, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে লাইসেন্স প্রদান এবং ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলাল বিন সাকিব বলেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিজে কোনো আর্থিক সম্পদ নয়; এটি কেবল তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের একটি প্রযুক্তি। তবে ব্লকচেইনের মাধ্যমে ইস্যু করা কিছু ডিজিটাল সম্পদ—যেমন বাস্তব সম্পদসমর্থিত সুকুক (ইসলামি বন্ড), স্বর্ণসমর্থিত টোকেন বা স্টেবলকয়েন—প্রকৃত সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। অন্যদিকে, বাস্তব সম্পদের ভিত্তি ছাড়া কেবল জল্পনার ওপর নির্ভরশীল টোকেনের বিষয়ে আলেমদের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে জন্য আলেম সমাজ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। সূত্র: ডয়চে ভেলে উর্দু

Tag :
About Author Information

Popular Post

ডিএমপিতে বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে ৮ কর্মকর্তা

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মুফতি তাকি উসমানীর ফতোয়া, ব্যাখ্যা চাইল পাকিস্তান সরকার

Update Time : ১০:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে ইসলামি শরিয়াহসম্মত নয়—দারুল উলুম করাচির এমন ফতোয়ার পর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির ভার্চুয়াল সম্পদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (পিভারা) বলেছে, জল্পনাভিত্তিক (স্পেকুলেটিভ) ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বাস্তব সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল টোকেনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বুধবার (১৫ জুলাই) পিভারার চেয়ারম্যান বিলাল বিন সাকিব জানান, গত জুনে দারুল উলুম করাচি একটি ফতোয়ায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাবেচাকে শরিয়াহসম্মত নয় বলে অভিমত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি চায়—সব ধরনের ডিজিটাল সম্পদকে এক কাতারে না ফেলে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হোক। কারণ, সব ডিজিটাল সম্পদের প্রকৃতি ও ব্যবহার এক নয়।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী স্বাক্ষরিত দারুল উলুম করাচির ফতোয়ায় বলা হয়, বর্তমান অবস্থায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে স্বীকৃত ‘মাল’ বা বৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে এটি বৈধ অর্থপ্রদানের মাধ্যমও নয়। ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও আলেম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানীসহ একদল আলেম এই ফতোয়া প্রণয়নে অংশ নেন। মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বই ও অনলাইন কোর্সের মূল্য পরিশোধ করা বৈধ কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফতোয়াটি দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে কাজ করছে। সরকারি সম্পদের টোকেনাইজেশন, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে লাইসেন্স প্রদান এবং ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলাল বিন সাকিব বলেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিজে কোনো আর্থিক সম্পদ নয়; এটি কেবল তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের একটি প্রযুক্তি। তবে ব্লকচেইনের মাধ্যমে ইস্যু করা কিছু ডিজিটাল সম্পদ—যেমন বাস্তব সম্পদসমর্থিত সুকুক (ইসলামি বন্ড), স্বর্ণসমর্থিত টোকেন বা স্টেবলকয়েন—প্রকৃত সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। অন্যদিকে, বাস্তব সম্পদের ভিত্তি ছাড়া কেবল জল্পনার ওপর নির্ভরশীল টোকেনের বিষয়ে আলেমদের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে জন্য আলেম সমাজ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। সূত্র: ডয়চে ভেলে উর্দু