Dhaka ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
দাওয়াতি সফরে নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষ দুই ইসলামি নেতা মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণকারী নেতা-নেত্রীদের ঈমান নবায়নের আহ্বান খেলাফত নেতার কওমি ধারার ৭ ইসলামি দলের নতুন জোট ঘোষণা মক্কা চুক্তির মূল দলিল প্রকাশ্যে, কী আছে এতে? রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের ‘আসামে মুসলিম উচ্ছেদ ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক’ পূজার নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতি আব্দুল মালেক সাভারের সেই মহিলা মাদরাসা থেকে নিখোঁজ ছাত্রী পল্লবী থেকে সুস্থ উদ্ধার সিটি নির্বাচন করব, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করব: প্রতিমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে ইশরাক সৌদিতে নিহত মুফতি নাসরুল্লাহর তিন এতিম সন্তানকে ১০ লাখ টাকা দিল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

দাওয়াতি সফরে নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষ দুই ইসলামি নেতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ Time View

বাংলাদেশের দুই শীর্ষ ইসলামি নেতা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দাওয়াতি ও সাংগঠনিক সফরে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ায়। একজন ১৪ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। অন্যজন চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সিরাত মাহফিল ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের এ সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামি দাওয়াত ও নিজ নিজ দলের পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা ছেড়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁকে বিদায় জানাতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন চরমোনাই পীর। সফরকালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে দাওয়াতি সভায় বক্তব্য দেওয়া এবং ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্রে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের ‘চরমোনাই পীর’ পরিচিতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, সফরকালে বিভিন্ন দেশের সুফিবাদের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের আমন্ত্রণে ধর্মীয় আলোচনা ও দাওয়াতি কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।

দলটির নেতারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের বাইরে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী পরিচিতি পেলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পরিচিতি তুলনামূলকভাবে কম। চরমোনাই পীরের এই সফর সেই পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সুফি ইসলামের চর্চা ও দর্শন তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীরের প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। কয়েক মাস আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ‘কাফেলা আমেরিকার দিকে’ বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান সফরের যোগসূত্র টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। তবে দলটির নেতারা সফরটিকে মূলত দাওয়াতি ও ধর্মীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তুলে ধরছেন।

মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

অন্যদিকে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমদ।

সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার কেলাং শহরের একটি মসজিদে জুমার খুতবা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তাঁকে কাছে পেয়ে মসজিদে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় মসজিদটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি ও সিরাত মাহফিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও ইসলামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন তিনি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সফর শেষে আগামী ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাতে সফরসঙ্গীদের নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে দাওয়াত ও সাংগঠনিক তৎপরতা

দুই ইসলামি নেতার সফরের কর্মসূচি ও উদ্দেশ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও উভয় সফরেই ধর্মীয় দাওয়াত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজ নিজ সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ধর্মীয় আলোচনা, মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সুফি ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যদিকে মাওলানা মামুনুল হকের মালয়েশিয়া সফরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি, সিরাত মাহফিল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামি দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ—দুই সফরের ক্ষেত্রেই এসব বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সফরগুলো থেকে নিজ নিজ দল কী ধরনের সাংগঠনিক বা আন্তর্জাতিক ফলাফল অর্জন করবে, তা পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে।

About Author Information

hsnalmahmud

দাওয়াতি সফরে নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষ দুই ইসলামি নেতা

দাওয়াতি সফরে নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষ দুই ইসলামি নেতা

Update Time : ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের দুই শীর্ষ ইসলামি নেতা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দাওয়াতি ও সাংগঠনিক সফরে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ায়। একজন ১৪ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। অন্যজন চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সিরাত মাহফিল ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের এ সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামি দাওয়াত ও নিজ নিজ দলের পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা ছেড়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁকে বিদায় জানাতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন চরমোনাই পীর। সফরকালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে দাওয়াতি সভায় বক্তব্য দেওয়া এবং ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্রে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের ‘চরমোনাই পীর’ পরিচিতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, সফরকালে বিভিন্ন দেশের সুফিবাদের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের আমন্ত্রণে ধর্মীয় আলোচনা ও দাওয়াতি কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।

দলটির নেতারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের বাইরে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী পরিচিতি পেলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পরিচিতি তুলনামূলকভাবে কম। চরমোনাই পীরের এই সফর সেই পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সুফি ইসলামের চর্চা ও দর্শন তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীরের প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। কয়েক মাস আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ‘কাফেলা আমেরিকার দিকে’ বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান সফরের যোগসূত্র টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। তবে দলটির নেতারা সফরটিকে মূলত দাওয়াতি ও ধর্মীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তুলে ধরছেন।

মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

অন্যদিকে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমদ।

সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার কেলাং শহরের একটি মসজিদে জুমার খুতবা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তাঁকে কাছে পেয়ে মসজিদে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় মসজিদটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি ও সিরাত মাহফিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও ইসলামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন তিনি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সফর শেষে আগামী ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাতে সফরসঙ্গীদের নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে দাওয়াত ও সাংগঠনিক তৎপরতা

দুই ইসলামি নেতার সফরের কর্মসূচি ও উদ্দেশ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও উভয় সফরেই ধর্মীয় দাওয়াত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজ নিজ সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ধর্মীয় আলোচনা, মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সুফি ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যদিকে মাওলানা মামুনুল হকের মালয়েশিয়া সফরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি, সিরাত মাহফিল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামি দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ—দুই সফরের ক্ষেত্রেই এসব বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সফরগুলো থেকে নিজ নিজ দল কী ধরনের সাংগঠনিক বা আন্তর্জাতিক ফলাফল অর্জন করবে, তা পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে।