ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিনের তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে নিজে গলাপানিতে নেমে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে নেতৃত্ব দেন তিনি।
একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে এভাবে জনস্বার্থে খালের পানিতে নামতে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার শত শত সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কাজে যোগ দেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকা এবং খালের জমাটবদ্ধ কচুরিপানার কারণে কাকনী ইউনিয়নের প্রায় ৯টি গ্রামের দুই হাজারেরও বেশি পরিবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছিল। থমকে গিয়েছিল কৃষিভিত্তিক জীবিকা, পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল শত শত পরিবার ও বসতবাড়ি।
এ সময় এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন যে জায়গার জন্য পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, প্রয়োজনে সেই জমি তিনি নিজ খরচে কিনে নেবেন। একই সঙ্গে খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে চিরতরে জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সংসদ সদস্যের এমন বিরল ও মহতী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার বইছে। নেটিজেনরা আলেম এই এমপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনসেবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ফেসবুকে Md Musharrof Hossain নামে একজন অ্যারাবিক প্রবাদ উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘سيد القوم خادمهم — ‘জাতির নেতা মূলত তাদের সেবক’। এটাই হচ্ছে তার বাস্তব ও উত্তম নমুনা, মাশা-আল্লাহ।’
এমপির এই উদ্যমী ভূমিকার প্রশংসা করে Salman Hossen Farsi লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভিডিওটা দেখে খুবই ভালো লাগলো। ময়মনসিংহ-২ আসনের সম্মানিত এমপি সাহেব নিজে পানিতে নেমে এভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’
একই ইস্যুতে এনামুল হক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের শত শত একর ফাসলি জমি বছরের পর বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকত। এমপি সাহেব নিজে নেমে যেভাবে খাল পরিষ্কারের সূচনা করলেন, তাতে আশপাশের পানি নামতে শুরু করেছে। এমন জনবান্ধব প্রতিনিধিই আমাদের প্রয়োজন।’
সামাজিক মাধ্যমে তারিকুল ইসলাম নামের এক তরুণ লিখেছেন, ‘ভিআইপি সংস্কৃতি ও কথামালার রাজনীতির ভিড়ে জননেতার এমন রূপ সত্যিই বিরল। জনগণের ভোগান্তিতে সরাসরি মাঠে ও পানিতে নেমে পড়া প্রমাণ করে ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি কতটা জনকল্যাণমুখী হতে পারে।’
এ ছাড়া মোশাররফ হোসেন নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের এমন কর্মীবান্ধব ও সেবামূলক আচরণ সারা দেশের নেতাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এই আলেম এমপিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
উল্লেখ্য, এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর এই প্রশাসনিক ও সামাজিক হস্তক্ষেপে পঙ্গুয়াই খাল সংলগ্ন এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসানের আলো ফুটতে শুরু করেছে।
Reporter Name 
















