হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় বুধবারের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পেছনে ছিল হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়া এবং বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত। এতে অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং নেপাল ও চীনে প্রায় ১,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি বলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কী ঘটেছিল সেদিন?
এর আগে, বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ধসে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে। প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে এই ধস হতে পারে।
তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) জানিয়েছে, যে কম্পন শনাক্ত হয়েছিল তা আসলে ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে পড়ার সময় সৃষ্ট সিসমিক শক্তি, এরপর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ওই কম্পন তৈরি হয়।
বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ লহেন্দে খোলা নদী বরাবর পাহাড় থেকে নেমে আসে। নদীটি নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পার্বত্য এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
এই কাদাধস তিব্বতের গিরং বন্দর এলাকায় আঘাত হানে এবং নেপালেও প্রবেশ করে। এরপর প্রচণ্ড গতির আকস্মিক বন্যা রাস্তা, বিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিভিন্ন গ্রাম ভাসিয়ে নেয়।
কতজন নিহত ও নিখোঁজ?
নেপালে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল ও চীন মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭৫০ জন বিদেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নেপালে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন:
- ১৭৭ জন ভারতীয়, যাদের অনেকেই কৈলাস মানসসরোবর তীর্থযাত্রায় ছিলেন
- ৬৩ জন মার্কিন নাগরিক
- ৫৩ জন ইউক্রেনীয়
- ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়
- ৩৩ জন ব্রিটিশ
- ২৮ জন মালয়েশীয়
- ২৫ জন কানাডীয়
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯ জন দক্ষিণ কোরীয়
এ ছাড়া আরও প্রায় ২০টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্যার সতর্কতার পর নেপালের নিম্নাঞ্চলের দিকে অবস্থিত ভারতের বিহার রাজ্য থেকে প্রায় ৫,০০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
নেপালে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, ৫,০০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি।
হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁবু, খাবার ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং বন্যার জমে থাকা পলি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
জাতিসংঘ জরুরি সহায়তার জন্য সরঞ্জাম ও কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত নেপালের সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছে, আর দক্ষিণ কোরিয়া একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে। সূত্র: জিও নিউজ
Reporter Name 




















