Dhaka ১০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মুসলিম নিধন বন্ধে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয় আসার আহ্বান টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি সম্পত্তি হস্তান্তর বিল ইসলামি শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক: হাইআতুল উলয়া টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ইজতেমা ইস্যুতে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলন শনিবার আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাসের দাবি ইসলামপন্থী দলের অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা করে আসার আহ্বান মুফতি ফয়জুল করীমের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবিতে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ না লেখার নির্দেশ বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু শুক্রবার লংমার্চের দাবির সঙ্গে জামায়াত আমিরের সংসদের বক্তব্য দ্বিমুখিতা: চরমোনাই পীর সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধনী আইন, ফতোয়ায় যা বললেন মুফতি আব্দুল মালেক

মুসলিম নিধন বন্ধে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয় আসার আহ্বান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View

বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের দমন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যেন একটি শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য ইহুদি, খ্রিস্টান এবং কাফের গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদে ‘সেভ দ্য পিপলস্’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিজ মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের এনআরসি আইন ও ধর্মীয় নিপীড়নের মাধ্যমে সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে; মসজিদ-মাদ্রাসা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ মূলত পশ্চিমা ও পরাশক্তিগুলোর স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। অপরদিকে সম্পদশালী মুসলিম দেশগুলোও এসব নির্যাতনের বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম ও মানবিক বিপর্যয় আজ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে এ অবস্থার অবসানে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্র ও শক্তিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী,দিলু রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের,আব্দুল আহাদ নুর, এডভোকেট ম‌ঈনুদ্দীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাস‌উদ খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ওআইসি-সহ বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের উচিত নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেওয়া। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কূটনৈতিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভারতের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনক। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, সেখানে নিরীহ ও নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার করতে মক্কা চুক্তির চেতনা বাস্তবায়ন জরুরি। মক্কা চুক্তি কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমান নির্যাতিত হলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাই পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে রেখে অভিন্ন স্বার্থে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে।

বৈঠকে বক্তারা ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বকে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ জোরদার করার আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে শুধু মুসলিম বিশ্বের নয়, সমগ্র বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত হতে হবে।

About Author Information

hsnalmahmud

Popular Post

মুসলিম নিধন বন্ধে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয় আসার আহ্বান

মুসলিম নিধন বন্ধে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয় আসার আহ্বান

Update Time : ০৬:১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের দমন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যেন একটি শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য ইহুদি, খ্রিস্টান এবং কাফের গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদে ‘সেভ দ্য পিপলস্’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিজ মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের এনআরসি আইন ও ধর্মীয় নিপীড়নের মাধ্যমে সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে; মসজিদ-মাদ্রাসা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ মূলত পশ্চিমা ও পরাশক্তিগুলোর স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। অপরদিকে সম্পদশালী মুসলিম দেশগুলোও এসব নির্যাতনের বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম ও মানবিক বিপর্যয় আজ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে এ অবস্থার অবসানে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্র ও শক্তিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী,দিলু রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের,আব্দুল আহাদ নুর, এডভোকেট ম‌ঈনুদ্দীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাস‌উদ খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ওআইসি-সহ বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের উচিত নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেওয়া। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কূটনৈতিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভারতের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনক। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, সেখানে নিরীহ ও নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার করতে মক্কা চুক্তির চেতনা বাস্তবায়ন জরুরি। মক্কা চুক্তি কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমান নির্যাতিত হলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাই পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে রেখে অভিন্ন স্বার্থে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে।

বৈঠকে বক্তারা ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বকে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ জোরদার করার আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে শুধু মুসলিম বিশ্বের নয়, সমগ্র বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত হতে হবে।