ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইসরায়েল এখন দীর্ঘদিনের শত্রু সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।
ইসরায়েলের নেতারা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে দেশটির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বলেন, “সিরিয়া ও লেবাননের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে শান্তি ও স্বীকৃতির বৃত্তে আনতে আমরা আগ্রহী এবং তা হবে ইসরায়েলের অত্যাবশ্যকীয় ও নিরাপত্তা স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই।”
“তবে গোলান মালভূমি ইসরায়েল রাষ্ট্রের অংশ হয়েই থাকবে” বলে জানান গিডিওন। কিন্তু সিরিয়া এতে আপত্তি জানিয়েছে।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করেছিল এবং ১৯৮১ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মহল একে অধিকৃত সিরীয় অঞ্চল হিসেবে গণ্য করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির প্রথম মেয়াদে এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
তবে সিরিয়ার শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তা কখনও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও স্বীকৃতির আলোচনা ২০০২ সালের আরব শান্তি পরিকল্পনার আওতায়ই হতে হবে।
২০০২ সালের প্রস্তাবে আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়েছিল, যদি ইসরায়েল দখলকৃত ভূখণ্ড—গোলান মালভূমি, পশ্চিম তীর ও গাজা—থেকে সরে দাঁড়ায় এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সম্মত হয়।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, “স্বীকৃতির বিষয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শর্ত বানানো অবাস্তব। আমাদের দৃষ্টিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গাজায় দুই বছর ধরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, পাশাপাশি লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপরও অভিযান চালিয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের মিত্র সিরিয়ার সাবেক নেতা বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা হারিয়েছেন।
২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান এই পথে হাঁটে। তবে এসব স্বীকৃতি আরব বিশ্বে জনপ্রিয়তা পায়নি।
গত মে মাসে রয়টার্স জানায়, ইসরায়েল ও সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থি শাসকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে বৈঠক হয়েছে।
একই মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।
Reporter Name 














