আজারবাইজানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সফরকালীন রাজধানী বাকুতে তার প্রতিনিধি দলের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন, দামেস্কের এক কূটনৈতিক সূত্র এমনটি জানিয়েছে বলে খবর আল-আরাবিয়ার।
আল-আরাবিয়া লিখেছে, এই বৈঠক দশকের পর দশক ধরে পরস্পরের শত্রু হয়ে থাকা দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এক বড় ধরনের পদক্ষেপ। অতীতে আল-শারার সঙ্গে আল কায়েদার সম্পর্ক থাকায় তার প্রশাসনকে প্রথমদিকে উপেক্ষা করেছিল ইসরায়েল।
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে সিরীয় ওই কর্মকর্তা বলেন, “বাকুতে আল-শারার সফরের ফাঁকে সিরিয়ার এক কর্মকর্তার সঙ্গে ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে।”
এই বৈঠকে আল-শারা নিজে অংশগ্রহণ করেননি। বৈঠকে ‘সম্প্রতি সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির’ বিষয়টি নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে বলে ওই দামেস্কের ওই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন।
ইসরায়েল আজারবাইজানের এক প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ইরানের উত্তরের প্রতিবেশী ককেশাস অঞ্চলের দেশটিতে ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক উপস্থিতি আছে।
ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশর আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার শত শতবার বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। সিরিয়ার সামরিক সম্পদ আল-শারার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাতে গিয়ে যেন না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এসব হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের দখলকৃত গোলান মালভূমির সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণাধীন যে বাফার জোন আছে সেখানেও সেনা পাঠায় ইসরায়েল। এই বাফার জোন থেকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের অনেক ভেতরে সামরিক অভিযান চালায় তারা।
আল-শারা বারবার বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন সিরিয়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত চায় না। ওই সময় তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন তারা সিরিয়ায় হামলা বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলে ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি তার সরকার নিশ্চিত করেছে, তারা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশটির সঙ্গে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরে যেতে চায়। ওই যুদ্ধবিরতির আলোকেই দুই দেশের সীমান্তে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ওই বাফার জোন তৈরি করা হয়।
গত মাসে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, ইসরায়েল সিরিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তুলতে চায়।
Reporter Name 














