৬০০ বছর আগে, মাত্র ২১ বছরের এক যুবক এমন এক কৌশল নিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের গতি বদলে দেয়।
তিনি আর কেউ নন—মেহমেদ আল ফাতিহ।
যখন বাইজেন্টাইনদের দুর্গ ‘কনস্টান্টিনোপল’ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম নগরী, তখন তিনি এক রাতেই প্রায় ৫০টি যুদ্ধজাহাজ পাহাড়ি পথ দিয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে গোল্ডেন হর্ণ উপসাগরে নামিয়ে দেন।
এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে ধসে পড়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত নগরীটি।
তুর্কি ভাষায় একটি প্রবচন আছে—
“যখন দেখবে জাহাজ পাহাড় পাড়ি দিচ্ছে, তখন বুঝবে দূর্গের পতন অবশ্যম্ভাবী।”
এই প্রবাদটি মেহমেদ আল ফাতিহের সেই রাতের সিদ্ধান্তের প্রতীক।
তিনি কেবল সামরিক জ্ঞানেই নয়, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার প্রতিও ছিলেন অতুলনীয়।
আজকের বাস্তবতায় ফিরে আসা যাক
আজ আমাদের সমাজে একুশ বছরের তরুণেরা কী করছে?
প্রেম, স্ক্রলিং, ঘোরাঘুরি, গেইমিং—সবশেষে একরাশ হতাশা।
নিজেকে গড়ার চিন্তা নেই, দায়িত্বের অনুভব নেই, জীবনের লক্ষ্য অস্পষ্ট।
সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি প্রজন্মগত সংকট।
এক সময় পুরুষ মানে ছিল সাহস, ত্যাগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব।
আজ সেই সংজ্ঞায় ঘোলাটে হয়ে উঠেছে—অনেকে নিজের জেন্ডার পরিচয় নিয়েই দ্বিধায়।
ইতিহাস আমাদের কী শেখায়?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—তরুণরাই ইতিহাস বদলায়।
সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, আলপ আরসালান, কিংবা মেহমেদ আল ফাতিহ—তাঁরা কিশোর বয়সেই নেতৃত্বের গুণে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন।
তারা শুধুমাত্র যুদ্ধ জয় করেননি—ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি আদর্শও দিয়ে গেছেন।
আমাদের দরকার একটি জাগরণ
আজ আমাদের দরকার এমন তরুণ,
যে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে কাজ শুরু করে।
যে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সচেষ্ট,
যে নায়ক হতে চায় রিল ভিডিওতে নয়, বরং বাস্তব জীবনে।
আপনি মেহমেদ, সালাহউদ্দিন, আলপ আরসালানদের উত্তরসূরি।
নিজেকে গড়ুন, নিজেকে চিনুন—তবে আপনাকে আর কারো সামনে মাথা নত করতে হবে না।
শেষ কথন:
ইতিহাস শুধু গর্বের কাহিনি নয়—এটি দায়িত্বের ডাক।
যদি আপনি একরাতেই পাহাড় টপকে জাহাজ নামানোর সাহস রাখেন,
তবে এই পৃথিবী একদিন আপনাকে অভিবাদন জানাবেই।
Reporter Name 










