বার্লিন, ৩১ মে ২০২৫ –
গাজার মানবিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েলে নতুন অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেবে জার্মানি। শুক্রবার ‘জুডয়েচন সাইটো’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওহান ভাদেফুল।
তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজন হলে আমরা গাজার পরিস্থিতি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেব যে ইসরায়েলে অস্ত্র চালান অনুমোদন করা হবে কিনা।”
হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভাদেফুল। তিনি জানান, “ইসরায়েলের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর মানে এই নয় যে, কোনো সরকার যা খুশি তাই করতে পারে।”
ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ইতিহাসগতভাবে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক দায় আছে, তবে এখন সময় এসেছে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব দেওয়ার।”
২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল জার্মানি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজার চরম মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক নিন্দা বাড়ার মধ্যে বার্লিন তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনছে।
গাজার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রায় ৫ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধে খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইসরায়েল এ সংকট ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফিডরিশ ম্যার্ৎসও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজন থাকলেও গাজায় চলমান বিমান হামলা আর কোনোভাবে যুক্তিযুক্ত নয়।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে ৫৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সম্পাদনা:আইডিয়াল টাইমস নিউজ ডেস্ক
উৎস: জুডয়েচন সাইটো, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাসমূহ
Reporter Name 














